জাপানের নির্মাণ ও উৎপাদন খাতে চাহিদা কমে যাওয়ায় টানা আট মাস ধরে কমছে অপরিশোধিত ইস্পাতের দাম। এ অবস্থায় গত মাসে ধাতুটির উৎপাদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে। সম্প্রতি জাপানের আয়রন অ্যান্ড স্টিল ফেডারেশন এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। খবর রয়টার্স ও হেলেনিক শিপিং নিউজ।
ফেডারেশনের তথ্যানুযায়ী, অক্টোবরে অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন ৬৯ লাখ ২০ হাজার টনে নেমে এসেছে। তবে সেপ্টেম্বরের তুলনায় উৎপাদন ৪ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। এ তথ্য খাতের অন্যান্য প্রভাবকের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়নি।
বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম ইস্পাত উৎপাদনকারী দেশ জাপান। ফেডারেশনের এক বিশ্লেষক জানান, দেশটির নির্মাণ খাতে ধীরগতি, কাঁচামালের উচ্চমূল্য, শ্রমিক সংকটের কারণে অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদনে ধীরগতি তৈরি হয়েছে। তাছাড়া দেশটির গাড়ি নির্মাণ শিল্পে মন্থরগতিতে উৎপাদন বাড়ায় পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠেছে। এছাড়া ইস্পাত আমদানি বেড়ে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট খাতের ওপর চাপ বেড়েছে।
ফেডারেশনের তথ্য বলছে, জাপানে চাহিদা কমে যাওয়া এবং ডলারের বিপরীতে দেশটির মুদ্রা ইয়েনের বিনিময় হার কমে যাওয়া সত্ত্বেও জানুয়ারি-সেপ্টেম্বরের মধ্যে সাধারণ ইস্পাত আমদানি ৮ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টনে পৌঁছেছে। একই সময়ে চীন থেকে আমদানি বেড়েছে ১৪ শতাংশ।
আন্তর্জাতিক বাজারে চীনের তুলনামূলক কম দামের ইস্পাত রফতানি বেড়েছে। এতে জাপানসহ অন্যান্য দেশে উৎপাদিত ইস্পাতের চাহিদা কমে গেছে। তাছাড়া কিছু দেশ জাপানি ইস্পাতের বিরুদ্ধে ‘অ্যান্টি ডাম্পিং’ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর আওতায় স্থানীয় বাজারের তুলনায় কম দামে ইস্পাত রফতানি ঠেকিয়ে রাখছে দেশটি। এ পদক্ষেপের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে জাপানের ইস্পাত শিল্পে।
নিপ্পন স্টিলের এক নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, এপ্রিল-সেপ্টেম্বর সময়কালে জাপানে ইস্পাত আমদানি এক দশকের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সময়ে চীন থেকে রেকর্ড পরিমাণ ইস্পাত কিনেছেন জাপানি ব্যবসায়ীরা। এমন প্রেক্ষাপটে দেশটির স্থানীয় উৎপাদনকারীদের সংকটে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গত মাসে জাপানের এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইস্পাত উৎপাদক দেশ চীনের ইস্পাত রফতানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে প্রয়োজনে বাণিজ্যিক পদক্ষেপ নেয়া হবে।’
শিল্প বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনের ক্রমবর্ধমান রফতানি বাণিজ্য সংঘাতকে আরো তীব্র করে তুলতে পারে।